ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ‘আলী রীয়াজ স্নাতকোত্তর গবেষণা পুরস্কার ও গবেষণা বৃত্তি’ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণায় কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার ও গবেষণা বৃত্তি প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এ সময় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যানসহ বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের হাতে গবেষণা পুরস্কার ও বৃত্তির চেক তুলে দেওয়া হয়। তবে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নাম ও চেকের নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পর্কে অনুষ্ঠানের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় উৎসাহিত করতে ‘আলী রীয়াজ স্নাতকোত্তর গবেষণা পুরস্কার ট্রাস্ট ফান্ড’ গঠন করা হয়। ২০২১ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে এ ট্রাস্ট ফান্ডের যাত্রা শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর ড. আলী রীয়াজ এ তহবিল গঠনের জন্য ১০ লাখ টাকা প্রদান করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই তহবিলের আয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের থিসিস গ্রুপের মেধাবী শিক্ষার্থীদের গবেষণা পরিচালনার জন্য বৃত্তি দেওয়ার পাশাপাশি স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ থিসিসের জন্য একজন শিক্ষার্থীকে ‘আলী রীয়াজ স্নাতকোত্তর গবেষণা পুরস্কার’ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো এই ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় পুরস্কার ও গবেষণা বৃত্তি প্রদান করা হয়। সে সময় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তামারা ইয়াসমীন তমা ‘আলী রীয়াজ স্নাতকোত্তর গবেষণা পুরস্কার’ পান। একই অনুষ্ঠানে মো. নাসিমুল হুদা ও অর্থী নবনীতা গবেষণা বৃত্তি লাভ করেন। তাঁদের হাতে পুরস্কার ও বৃত্তির চেক তুলে দেন তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল।
ট্রাস্ট ফান্ডটি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহিত করা এবং মানসম্মত গবেষণাকর্মকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ড. আলী রীয়াজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রথম ব্যাচের সম্মান শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং পরবর্তীতে এ বিভাগের শিক্ষক ছিলেন।
গবেষণার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বৃদ্ধি এবং উচ্চশিক্ষায় মানসম্মত গবেষণা চর্চার পরিবেশ তৈরিতে এ ধরনের পুরস্কার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।