শিশু, নারী ও প্রবীণদের জন্য সহজলভ্য, মানবিক ও কার্যকর মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি, পেশাজীবী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রফেশনাল মাস্টার্স প্রোগ্রামের আয়োজনে ‘Victimization to Resilience: Mental Health Services for Children, Women, and the Elderly’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহবুবা সুলতানা। উপাচার্য বলেন, শিশু, নারী ও প্রবীণরা বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা, নির্যাতন, অবহেলা, বৈষম্য ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার শিকার হতে পারেন। এসব অভিজ্ঞতা তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক জীবনযাত্রায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তাঁদের কেবল ভুক্তভোগী হিসেবে বিবেচনা না করে প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা শুধু চিকিৎসার বিষয় নয়; এটি সামাজিক কল্যাণ, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা ও সামগ্রিক জীবনমানের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এ ক্ষেত্রে সমাজের ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের সক্ষমতা ও মর্যাদা পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখা সমাজকল্যাণ পেশাজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম আরও বলেন, অর্জিত জ্ঞান কেবল একাডেমিক সাফল্য অর্জনের জন্য নয়, বরং মানুষের জীবনকে আরও নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও কল্যাণময় করে তুলতে ব্যবহার করতে হবে। শিশু, নারী ও প্রবীণদের মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণা ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ গবেষণা, শিক্ষা এবং সেবাপরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পেশাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু শ্রেণিকক্ষে জ্ঞান প্রদানই যথেষ্ট নয়; বরং বাস্তব সমস্যা বিশ্লেষণ, গবেষণাভিত্তিক চিন্তা এবং মানুষের সঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করার দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে। জাতীয় পর্যায়ের এ ধরনের সেমিনার শিক্ষার্থীদের গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীদের কাছ থেকে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও নতুন ধারণা অর্জনের সুযোগ তৈরি করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এ বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও সমাজকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এর ধারাবাহিকতায় সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট সামাজিক উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবকল্যাণ ও পেশাগত সমাজকর্মের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পরিবর্তনশীল সমাজে দারিদ্র্য, বৈষম্য, বেকারত্ব, বার্ধক্য, অপরাধ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের মতো বিষয়গুলো ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে উল্লেখ করে উপাচার্য এসব সমস্যা মোকাবিলায় জ্ঞান, দক্ষতা, সহমর্মিতা ও নৈতিক দায়িত্ববোধসম্পন্ন পেশাজীবী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সেমিনারে অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহীন খান, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিন ভূঁঞা এবং অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক ড. শেখ তৌহীদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সেমিনার উপলক্ষে প্রকাশিত ‘Harmony’ শীর্ষক স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।