**ঢাকা** - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি (শিক্ষার্থী-শিক্ষক কেন্দ্র) পায়রা চত্বর ও সংলগ্ন মুক্তমঞ্চে মহা ধুমধামে আয়োজিত হয়েছে উন্মুক্ত লালন কনসার্ট ও লালন স্মরণানুষ্ঠান।
মানবতাবাদী ও মরমি সাধক ফকির লালন শাহের তিরোধান দিবস উপলক্ষে "কালচার ফর ইউনিটি, বাংলাদেশ"-এর আয়োজনে এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
**লালন সাঁইজির ভাবাদর্শ ও অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা**
আয়োজনের ব্যানারে ভেসে ওঠে লালন শাহের অমর বাণী-
"মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি"
এছাড়াও টিএসসির মঞ্চজুড়ে কবি ও বাউল সাধকের মানবধর্মী কথা ও বাণী যেমন: "সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে, লালন কয় জাতের কিরূপ দেখলাম না এ নজরে" প্রতিফলিত হয়।
প্রতিবেদনে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই কনসার্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, শিল্পমনা সাধারণ মানুষ ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। তারা একতার সুর, আত্মানুসন্ধান ও অসাম্প্রদায়িক মানবিকতার জয়গান গাইতে গান ও কথামালায় পুরো সন্ধ্যা ও রাত উদযাপন করেন।
**কনসার্টের মূল আকর্ষণ ও পরিবেশনা**
উন্মুক্ত এই কনসার্টে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বাউল ও লোকশিল্পীরা অংশ নেন। মঞ্চে ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র একতারা, দোতারা, বাঁশি ও তবলা-ঢোলের তালে তালে শিল্পীরা একের পর এক পরিবেশন করেন লালনের অমূল্য সব সৃষ্টি-
- "সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে" - "খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়" - "মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি"
মঞ্চজুড়ে শিল্পীদের সুনিপুণ উপস্থাপনা এবং টিএসসিতে জড়ো হওয়া হাজারো শ্রোতার করতালিতে পুরো প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর পরিবেশে রূপ নেয়।
**আলোচনা ও সাংস্কৃতিক বার্তা**
অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে লালন সাঁইজির দর্শন, সাহিত্য ও জাত-পাতহীন সমাজের ভাবধারা নিয়ে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট গবেষক, শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। আলোচকরা উল্লেখ করেন যে, লালনের গান কেবল ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীত নয়, বরং তা সমাজের বৈষম্য, অন্ধবিশ্বাস ও জাতিগত সংঘাত দূর করার এক শক্তিশালী দার্শনিক হাতিয়ার।
বিগত সময়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে ১৭ অক্টোবরকে লালন সাঁইজির তিরোধান দিবস হিসেবে পালন ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ক-শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে মর্যাদা দেওয়ার পর থেকে ঢাকাসহ সারা দেশজুড়ে জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মও ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনায় এই দিনটি পালন করে আসছে।
**উন্মুক্ত পরিবেশ ও প্রাণবন্ত উপস্থিতি**
টিএসসির পায়রা চত্বরে কোনো নির্দিষ্ট টিকেট বা প্রবেশের বাধা না থাকায় সর্বস্তরের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় এই আয়োজন। কনসার্টের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দর্শকরা লালন শাহের সুফি ও বাউল দর্শনে বুঁদ হয়ে পরিবেশনা উপভোগ করেন।
**নোট**: ১৭ অক্টোবর লালন সাঁইজির তিরোধান দিবস উপলক্ষে ঢাকাসহ সারাদেশেই শিল্পকলা একাডেমি, কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়া আখড়াবাড়িসহ নানা জায়গায় গান ও মেলার আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।