ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের (এফবিএস) মেইন গেটে সড়ক দুর্ঘটনায় মার্কেটিং বিভাগের ১০৫ ব্যাচের পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আহত পাঁচ শিক্ষার্থীই মার্কেটিং বিভাগের ১০৫ ব্যাচের, যা মার্কেটিং ৩২ হিসেবে পরিচিত। দুর্ঘটনার পর তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্তুজা মেডিকেলে নেওয়া হয়।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আহতদের হাত, পা, হাঁটুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে ও ছিলে যাওয়ার চিহ্ন রয়েছে। একজন শিক্ষার্থী আতঙ্কিত হয়ে পড়লে তাঁকে অক্সিজেন দেওয়া হয়। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও ব্যান্ডেজ করা হয়েছে। এক্স-রে করার পর হাড় ভেঙেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন গণিত বিভাগের এক শিক্ষকের ছেলে। তিনি গাড়ি চালানো শিখছিলেন এবং ওই দিনই প্রথমবারের মতো গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁর বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্সও ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জনসমাগমপূর্ণ স্থানে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও বৈধ লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের মতে, ক্যাম্পাসে বারবার এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলেও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়।

শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। তাই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে যানবাহন চলাচলে কঠোর নজরদারি, চালকের বৈধ লাইসেন্স যাচাই এবং পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। তাঁদের মতে, শুধু দুর্ঘটনার পর চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই যথেষ্ট নয়; ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।