ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সকল তথ্য-উপাত্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (ডিসিইউ) কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমানের কাছে শিক্ষার্থীদের তথ্য-উপাত্ত হস্তান্তর করেন। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. সালমা বেগম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন ও রেজিস্ট্রারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

শিক্ষা কার্যক্রম গতিশীল হওয়ার প্রত্যাশাঃ তথ্য-উপাত্ত হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনের সার্বিক সফলতা কামনা করেন। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের তথ্য-উপাত্ত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের মাধ্যমে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান শিক্ষার্থীদের তথ্য-উপাত্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে হস্তান্তর করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

সাত কলেজের পৃথকীকরণ থেকে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রাঃ রাজধানীর সরকারি সাত কলেজ দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল। ২০১৭ সালে কলেজগুলোকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। কলেজগুলো হলো ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজ। অধিভুক্তির পর বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনিক জটিলতা, পরীক্ষা ও ফল প্রকাশে বিলম্বসহ নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পৃথক করে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাত কলেজের প্রশাসনিক, একাডেমিক ও আর্থিক দায়িত্ব এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের তথ্য, ছবি ও ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনার ফি প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। ওই সময়ের দায়িত্ব হস্তান্তরকে সাত কলেজের পৃথকীকরণ প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তিন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের স্থানান্তরে রোডম্যাপঃ সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের আওতায় আনার বিষয়টিও সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্ব পেয়েছে। ২০২৬ সালের ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের ২০২১-২২, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সংশ্লিষ্ট একাডেমিক প্রোগ্রামে স্থানান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২৭ আগস্ট শিক্ষার্থীদের স্থানান্তর ও পরীক্ষা-সংক্রান্ত রোডম্যাপ প্রকাশ করা হয়। জাগোনিউজ২৪-এর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পনায় শিক্ষার্থীদের তালিকা, পরীক্ষার ফল, সিলেবাস ও একাডেমিক রেগুলেশনের হার্ড ও সফট কপি হস্তান্তরের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনা দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যালয় এবং সাত কলেজে হেল্পডেস্ক চালুর কথাও জানানো হয়। তবে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক স্থানান্তর নিয়ে আইনি প্রশ্নও উঠেছে। ২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রুল দিয়েছেন এবং রিট আবেদনকারী চার শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটি দুই মাসের জন্য স্থগিত করেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্য শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে স্থানান্তর প্রক্রিয়া চলমান থাকার কথা জানিয়েছিল রাষ্ট্রপক্ষ।

সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের তথ্য-উপাত্ত হস্তান্তরের এ কার্যক্রম নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ও একাডেমিক ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন, পরীক্ষার ফলাফল, সিলেবাস এবং অন্যান্য একাডেমিক নথির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা তাদের শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখার জন্য প্রয়োজনীয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গৃহীত উদ্যোগগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রশাসনিক সমন্বয় আরও সহজ হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক স্বার্থ সুরক্ষা, পরীক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম সুসংগঠিত করাই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।