**ঢাকা** - আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আবারও বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য গৌরব বয়ে এনেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস (এমআইএস) বিভাগের বিশিষ্ট গবেষক ও অধ্যাপক ড. মো. রাকিবুল হক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা গবেষণা প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ার (Elsevier) কর্তৃক যৌথভাবে প্রকাশিত ২০২৬ সালের বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় স্থান অর্জন করেছেন তিনি।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) ধারায় অসাধারণ ও যুগান্তকারী গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে আইসিটি শাখার অন্তর্ভুক্ত ‘মেডিকেল ইনফরমেটিকস’ (Medical Informatics) উপক্ষেত্রে তিনি অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছেন। বিশ্বজুড়ে এ উপক্ষেত্রের হাজার হাজার গবেষকদের পেছনে ফেলে তাঁর বৈশ্বিক অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৬৫তম। আন্তর্জাতিক একাডেমিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার মান ও গবেষণা ক্ষমতার বড় প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই অর্জনকে।

**টানা পঞ্চমবারের মতো বিশ্বসেরার স্বীকৃতি**

প্রকাশিত আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ের বিশ্বস্ত উপাত্ত পর্যালোচনা করে জানা যায়, এটি ড. রাকিবুল হকের জন্য প্রথম সাফল্য নয়। এর আগেও তিনি ২০২০, ২০২১, ২০২২ এবং ২০২৫ সালে বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ধারাবাহিকভাবে স্থান করে নিয়েছিলেন। ২০২৬ সালের হালনাগাদ তালিকায় পুনরায় স্থান পাওয়ায় তিনি মোট পাঁচবার (৫ম বার) এই সম্মানজনক স্বীকৃতি অর্জনের গৌরব অর্জন করলেন।

মেডিকেল ইনফরমেটিকস ও ডিজিটাল হেলথ সলিউশন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত তাঁর উচ্চমানের গবেষণা প্রবন্ধ, উচ্চ উদ্ধৃতি (citations) এবং বৈশ্বিক সাইটেশন ইনডেক্সের ভিত্তিতে এই র‍্যাঙ্কিং নির্ধারিত হয়েছে।

**কেন বিশেষ এই অর্জন?**

মেডিকেল ইনফরমেটিকস মূলত স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং ডিজিটাল নেটওয়ার্কের প্রয়োগ নিশ্চিত করে। ড. রাকিবুল হকের এ বিষয়ক গবেষণা বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

**এই কৃতিত্ব সম্পর্কে দেশের শিক্ষাবিদরা মত প্রকাশ করে বলেন: **

- বিশ্বমঞ্চে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: আন্তর্জাতিক গবেষণা সূচকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও শিক্ষক-গবেষকদের সামর্থ্য সুদৃঢ়ভাবে ফুটে উঠেছে।

- দেশের আইসিটি খাতের প্রসার: তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল হেলথ সেক্টরে বাংলাদেশের গবেষকদের সম্ভাবনা বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

- তরুণদের অনুপ্রেরণা: দেশীয় উদীয়মান তরুণ বিজ্ঞানী ও গবেষকদের উচ্চমানের গবেষণা ও আন্তর্জাতিক জার্নালে কাজ করতে তা উৎসাহিত করবে।

**স্ট্যানফোর্ড-এলসেভিয়ার র‍্যাঙ্কিং প্রক্রিয়া**

উল্লেখ্য, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এলসেভিয়ার প্রতি বছর স্কোপাস (Scopus) ডাটাবেজের ওপর ভিত্তি করে সারাবিশ্বের বিজ্ঞানীদের কাজের প্রভাব, এইচ-ইনডেক্স (h-index), সি-স্কোর (c-score) ও সাইটেশনের সংখ্যা বিশ্লেষণ করে বিশ্বের প্রভাব বিস্তারকারী শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীদের তালিকা তৈরি ও প্রকাশ করে থাকে।

**SOURCE**: IG DESK **Picture** : Collected